মোট পৃষ্ঠাদর্শন

Translate

বিশ্বসেরা যে দশ টি রোবট পতঙ্গ তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা।



কেমন হতো যদি পিপড়াদের মতো ছোট প্রাণীদের পোষ মানানো যেতো? কেমন হতো যদি ফড়িংকে দিয়ে শত্রুপক্ষের অবস্থান ও গোপন সংবাদ হাসিল করানো যেতো? বাস্তবে হয়তো এসব প্রাণীদের দিয়ে এম কিছু করা যাবে না, কিন্তু তাই বলে বিজ্ঞানীরা বসে থাকেননি। তাঁরা ক্ষুদ্র পোকা-মাকড়ের মতো করে রোবট বানিয়ে যাচ্ছেন। আকারে বড় হবার কারণে মানুষ যেখানে যেতে পারে না, ছোট বা সংকুচিত স্থান হবার কারণে যাওয়া সম্ভবও নয়, সেখানে এদের দিয়ে কাজ করানো যাবে ইচ্ছে মতো। এমন ধরনের কয়েকটি পতঙ্গ রোবট নিয়ে আজকের আয়োজন।
. রোবট মৌমাছি (Robobee)
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এই রোবট-মৌমাছি তৈরি করেন। এটি নিজে নিজেই উড়তে পারে। পাখার নিচে থাকে কন্ট্রোল প্যানেল। কন্ট্রোল প্যানেলের সাহায্যে একে নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা দেয়া হয়। এর পাখা প্রতি সেকেন্ডে ১২০ বার উঠানামা করাতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহজে উড়ে যাবার জন্য, আগুন লেগে তৈরি দুর্ঘটনায় (যেখানে মানুষ প্রবেশ করতে পারে না), এমনকি ফুলের কৃত্রিম পরাগায়নেও এদের কাজে লাগানো যাবে। আকৃতির দিক থেকে এগুলো কেমন ছোট তা একটি উদাহরণে বুঝা যাবে। এরকম এক হাজারটা মৌমাছি যদি একত্রে নেয়া হয় তবে তাদের ভর হবে আধা কেজির মতো!
. রোবট পিপড়া
১৯৯০ সালেই পিপড়া রোবট বানানোর পরিকল্পনা শুরু হয়। এই ধরনের রোবটের ডিজাইন চিন্তা-ভাবনা করেন ম্যাসাচুসেট ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির ছাত্র জেমস ম্যাকলারকিন। তার তৈরি করা রোবট পিঁপড়ার ভেতরে একটি ছোট কম্পিউটার, আলোক সংকেত শনাক্ত করার সেন্সর, দুটি মোটর ছিল। একটি মোটরের সাহায্যে চলাচল করতো এবং আরেকটি ব্যাবহার করত দাঁত (ম্যান্ডিবল) নাড়াচাড়া করার কাজে। লম্বায় মাত্র ১ ইঞ্চি। লুকিয়ে রাখা বা হারিয়ে যাওয়া কোনো বস্তু খুঁজে পেতে এই রোবট কাজে লাগবে। সরু সুরঙ্গের ভেতর থেকে কোনো তথ্য বা ভিডিও করে আনতে এগুলো উত্তমভাবে ব্যবহার করা যাবে। ধীরে ধীরে একে আধুনিক করা হচ্ছে। আধুনিক সংস্করণে সুবিধা থাকছে বেশি, দাম পড়ছে কম।
. ড্রাগন ফ্লাই
জর্জিয়া টেকের একদল গবেষক ড্রাগন-ফ্লাই নামক এই রোবটটি তৈরি করেন। এর চার কোনায় চারটি পাখা। আকারে তেমন বড় নয়, হাতের তালুতেই সহজে জায়গা করে নিতে পারবে। বিমান বা হেলিকপ্টারের মতো করে উড়তে পারে এই পতঙ্গ-রোবট। যেখানে মানুষ যেতে পারে না বা গেলে কৌশলগত কারণে কিছু সমস্যার দেখা দেয় এরকম নিষিদ্ধ বা গোপন জায়গা থেকে খুব সহজেই তথ্য পৌঁছে দিতে পারে। পাশাপাশি করতে পারে ভিডিও। এমনভাবে উড়ে যে, কেউ দেখলে সত্যিকারের পোকা বলেই মনে করে; বুঝতে পারে না এটা একটা যন্ত্র।
. রোবট তেলাপোকা
২০০৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই রোবট-তেলাপোকাটি তৈরি করেন। তাঁরা ছয়-পাওয়ালা ক্ষুদ্র রোবট তৈরি করতে চাইছিলেন। ছয় পায়ের ধারণা থেকে ছয়-পাওয়ালা তেলাপোকা রোবট তৈরি করে ফেলেন। দৈর্ঘ্যে ১০ সেন্টিমিটার। এই ক্ষেত্রে ১০ সেন্টিমিটার মোটামুটি ভালোই বড়। তবে বড় হলেও এর চলাচলের গতিতে কোনো সমস্যা হয় না। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন মিটার যেতে পারে। এই দিক থেকে এটি বিশেষ ধরনের। এটি এমন দ্রুত গতির রোবট যা ১ সেকেন্ডে তার দেহের দৈর্ঘ্যের ২৬ গুণ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
. হেক্টর
এটিও ছয় পা-ওয়ালা রোবট। তবে একে তেলাপোকা থেকেও একটু টেকসই করে গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এক দিক থেকে সুবিধা বেশি পেলে অন্য দিক দিয়ে কমে যায়। এরও হল তাই, টেকসই হলেও এটি তেলাপোকার মতো উন্নত নয়। তবে এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। যে কাজগুলো দেখতে ছোটখাটো কিন্তু মানুষ সেগুলো করতে পারে না সেই কাজগুলো করবে হেক্টর নামের এই ক্ষুদ্র রোবট।
. চতুর্মুখী কপ্টার
হাঁটতে, দৌড়াতে ও উড়তে পারে বলেই এর এই নাম- ‘চতুর্মুখী কপ্টার’। কার্বন ফাইবারের ফ্রেমে তৈরি এই রোবটে ৬ টি ঘূর্ণায়মান অংশ (rotor) আছে। এগুলো ভারসাম্য রক্ষা করে এবং চলতে সাহায্য করে। এর উদ্ভাবক Mad Lab Industries-এর একজন সদস্য। নিছক মজা করার জন্য এই অদ্ভুত রোবট তৈরি করেছিল তারা। সংস্থার নামই তো ‘ম্যাড’! তবে মজা করে তৈরি করলেও এটি এমন পারফরমেন্স দেখিয়েছে যে একে দেখলে যে কেউই বলবে এটি ভবিষ্যতের রোবটের জন্য মডেল হতে যাচ্ছে।
. রোবট উইপোকা
আসবাবপত্র আর কাঠ কুড়কুড় করে খেয়ে ফেলা পোকাকে বেছে নেয়া হয়েছে রোবট বানানোর নমুনা হিসেবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই কৃত্রিম রোবট-উইপোকা তৈরি করেন। এর পেছনে কাজ করেছেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী রাধিকা নাগপাল, এবং তার সহকর্মীরা। রোবট-উইপোকারা ক্ষুদ্র স্থাপনা তৈরি করতে পারে। ক্ষুদ্র ইট সাজিয়ে সাজিয়ে এরা সিঁড়ি বানাতে পারে। চলার পথে উঁচু কোনো বাধা পড়লে নিজে নিজেই ইট বিছিয়ে বাধার সমান উঁচু হয়ে পার হয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে নির্মাণ কাজে, নির্মাণ কাজে মানুষকে সাহায্য করতে তাদের ব্যাবহার করা যেতে পারে।
. ছোট তেলাপোকা
এরা দেখতে স্বাভাবিক জীবন্ত তেলাপোকার মতোই। তবে আকৃতিতে ছোট। আগে উল্লেখ করা তেলাপোকারা তাদের কাজে অনেক সচল। সেই তুলনায় এটা এতটা সচল নয়। তবে এদের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এরা কয়েকটি রোবট খুব সুন্দরভাবে একসাথে মিলতে পারে। অনেকটা ফুটবল খেলার টিমের মতো। তার ফলে মনে হয় এরা সত্যিকারের কোনো তেলাপোকা। এদেরকে আগে উল্লেখ করা তেলাপোকার সাথে ব্যাবহার করা যেতে পারে। ফলে সহজে মানুষের চোখকে ফাঁকি দেয়া যাবে।
. রোবট প্রজাপতি
জাপানি গবেষকদের দ্বারা তৈরি হয়েছে এই রোবট প্রজাপতি। এটি হয়তো প্রকৃতির প্রজাপতির মতো অনিন্দ্য সুন্দর নয়, কিন্তু তারপরেও খুব কাজের। আকার-আকৃতিতে আসল প্রজাপতির মতো। চালাতে বাইরে থেকে নজরদারি করা লাগে না। সামনে কোনো বাধা থাকলে এটি নিজে নিজেই তা অতিক্রম করে যেতে পারে।
১০. গোয়েন্দা প্রজাপতি রোবট
ইজরাইলের বিজ্ঞানীরা এমন এক প্রজাপতি রোবট তৈরি করেছেন যা পুরোদস্তর গোয়েন্দার কাজ করতে পারবে। ভরে মাত্র ২০ গ্রাম। ভবনের ভিতরে থাকা কোনো কিছুর তথ্য উদ্ঘাটন ও সংগ্রহের জন্য একে উপযুক্ত করে বানানো হয়েছে। এর সাথে খুবই ক্ষুদ্রাকৃতির ক্যামেরা ও মেমোরি কার্ডও জুড়ে দেয়া হয়েছে। রোবটটির সাথে একটি হেলমেটের সম্পর্ক আছে। যখন কেও এই হেলমেটটি মাথায় পরবে তখন এই রোবটটি যা দেখে অর্থাৎ ক্যামেরায় যা ধরা পড়ে অনেক অনেক মাইল দূরে থেকে হেলমেট পরিহিত লোকটিও তাই দেখতে পায়।
Read more ...

আপনি মনে মনে যা চিন্তা করবেন এখন ফেচবুকে তাই লিখা হবে!


প্রযুক্তি বিশ্ব প্রতিদিন নিয়ে আসছে নিত্যনতুন চমক। এর মুখ্য ভুমিকা পালন করছে ফেচবুক ও গুগল। এরই ধারাবাহিকতায় ফেচবুক নিয়ে আসছে চিন্তার মাধ্যমে লিখার পদ্ধতি। যা আরও গতিশীল করবে প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষ করে ফেচবুকের কোটি গ্রাহকের মাধ্যমে এই গ্রহটাকে করে তুলবে প্রযুক্তির উৎকৃষ্ট মহল্যা।
ফেসবুক এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যাতে চিন্তার মাধ্যমে টাইপ করা যাবে এবং “চামড়ার মাধ্যমে শোনা যাবে”।
সামাজিক মাধ্যমটি ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আপনাকে আপনার মন-সংযোগের মাধ্যমে যোগাযোগের সুবিধা দিতে চাইছে। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ সম্প্রতি এমন বিবৃতি দিয়েছে।
বিল্ডিং এইট (Building 8) নামক ফেসবুক গবেষণাগারে এই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। এর আগে এই ভবনটির ব্যাপারে খুব সামান্য তথ্যই প্রকাশ্য ছিলো। কিন্তু গত বুধবারে ফেসবুকের ঘোষনার মাধ্যমে এর কর্মকান্ডের বিস্তারিত উদ্ঘটিত হয়।
বিল্ডিং এইটের প্রধান, রেজিনা ডুগান বলেছেন, তাঁর দলে ৬০ জন বিজ্ঞানী আছে যাঁরা এই মূহুর্তে দেখছেন কীভাবে শুধু মস্তিষ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করে ১০০ টি শব্দ লেখা যায়।
এর চেয়েও আরেকটি উন্নততর প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করা হচ্ছে যার মাধ্যমে চামড়ার মাধ্যমে উচ্চরিত ভাষা শোনার ব্যবস্থা করা হবে।
ডুগানের মতে, এই গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য এতে মান্দারিন ভাষায় চিন্তা করা যাবে এবং স্প্যানিশে অনুভব করা যাবে।
Silent Language Interface
এই প্রকল্প এখনো সুদূর পরাহত তবে কোম্পানীটি মনে করে ক্রমান্বয়ে এটি আলোর মুখ দেখবে। বুধবারে জাকারবাগ একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, “ত্রমান্বয়ে আমরা একটি পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করব যা কারখানার স্কেলে উৎপাদন করা যাবে।”
ডুগান নিজেও তাঁর পোস্টে এই প্রযুক্তিটিকে নীরব ভাষ্য ইন্টারফেস (silent voice interface) প্রযুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাতে তিনি প্রস্তাব করেছেন এই প্রযুক্তিতে ব্যবহার কারী নিজের ভাষায় কথা বলেই গোপনভাবে বার্তা পাঠাতে পারবেন।
Read more ...

আপনি কি ইংরেজিতে কাঁচা? না কোন সমস্যা নেই এবার বাংলায় লিখে আয় করুন।


বাংলা হোক বা ইংরেজি, আদতে বিষয়টা হলো ‘কনটেন্ট রাইটিং’। বিশুদ্ধ ক্রিয়েটিভ ব্লগ থেকে শুরু করে সফ্টওয়্যার টেকনিক্যাল রাইটিং—এর মধ্যে সবকিছুই পরে। এমনকী, গোস্টরাইটিংও, যেখানে অন্য কারও বকলমে লিখতে হয়। শুধুমাত্র বাংলা বা ইংরেজি বা যে কোনও ভাষা লিখেই আয় করা যায় আর তা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভববাড়িতে বসেই। এই সব লেখা যে শুধু ওয়েব-এর জন্য, তা কিন্তু নয়। বিজ্ঞাপন জগতের কনটেন্ট রাইটার-রা মূলত লেখেন প্রোডাক্ট ব্রোশিওর, নিউজলেটার, ই-মেলার ইত্যাদি। এছাড়াও কনটেন্ট রাইটাররা কাজ করেনবিভিন্ন বই প্রকাশনা সংস্থার হয়ে, টেক্সট্ বুক রাইটার হিসেবে। এই পেশায় যাঁরা আছেন, তাঁদের একটি বড় অংশ ওয়েব-এ ‘ওয়র্ক ফ্রম হোম’ মোডে কাজ করেন। অর্থাৎ লেখাজোকা, প্রোজেক্ট ডেলিভারি, টিম মিটিং, মাসমাইনে—সবকিছুই অনলাইন। কেউ কেউআবার ‘মাস’ হিসেবে নয়, প্রোজেক্ট অনুযায়ী কাজ করতে পছন্দ করেন। সে প্রোজেক্ট এক সপ্তাহেরও হতে পারে, আবার ৬ মাসেরও হতে পারে। এর পাশাপাশি রয়েছেন ফুল-টাইম কনটেন্ট রাইটার্স, যাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে অফিস যেতে হয় এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করতে হয়। বহুদিন কাজ করে অভিজ্ঞতা বাড়লে, পরে কনটেন্ট এডিটর হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কনটেন্ট রাইটিং-এর সবচেয়ে বড় কাজের বাজার কিন্তু রয়েছে ওয়েব-এই। আর সে বাজার ক্রমশ বাড়ছে। তবে শুধুমাত্র বাংলায় যদি লেখেন, তবে কাজের ক্ষেত্রটা ইংরেজি-র তুলনায় সীমিত। বাড়ি থেকে কাজ করলে
প্রথমেই আপনাকে প্রোফাইল তৈরি করতেহবে ইলান্স- ওডেস্ক(আপওয়র্ক) এবং ফ্রিলান্সার-এ। এ দু’টি ওয়েবসাইট হলো এই ধরনের কাজের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক। এখানে পাবেন দু’ধরনের প্রোফাইল—একদল যাঁরা কাজ করেন এবং অন্যদল, যাঁরা কাজ করান, অর্থাৎ ক্লায়েন্টস। সারা প়ৃথিবী থেকে লোকজন এখানে কাজের খোঁজে আসেন। শুধু কনটেন্ট নয়, ওয়েব ডিজাইনিং, প্রোগ্রামিং, ডেটা এন্ট্রি, টাইপিং এমনকী অ্যাকাউন্টস-এর কাজও থাকে। এই দুই দলকেই রেটিং করে এই ওয়েবসাইটগুলি। যিনি লিখবেন, তাঁর জন্য আছে নানা ধরনের স্কিল টেস্ট। তিনি যত বেশি টেস্ট দেবেন এবং ভাল নম্বর নিয়ে পাশ করবেন, তাঁর ‘বাজারদর’ তত বেশি। ক্লায়েন্ট-রা এই রেটিং-এর উপর ভিত্তি করেই রাইটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, টাকা-পয়সা নিয়ে দর কষাকষি করেন। বাংলা কনটেন্ট রাইটিং-এর উপর কী কী ধরনের কাজ আছে, সেটা ওয়েবসাইটের নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন-এ খুঁজতে হবে। ক্লায়েন্টরা কাজগুলি সম্পর্কে দু’চার কথা লিখে প্রোজেক্ট হিসেবে সেগুলি পোস্ট করেন। পাশে লেখা থাকে টাকার অঙ্ক—প্রতি ঘণ্টা কাজের হিসেবে
অথবা সম্পূর্ণ প্রোজেক্ট ধরে। তাছাড়া রয়েছে কুইকার, ইনডিড, নোকরি ডট কম ইত্যাদি জব সাইট্স, যেখানে
ফুল-টাইম, পার্ট টাইম দু’ধরনের কাজেরই খবরাখবর থাকে। বিডিং-নেটওয়র্কিং-কলিং কনটেন্ট রাইটিং-এর
কাজ পাওয়া যায় তিনভাবে—
১. ওয়েবসাইটগুলিতে গিয়ে নেটওয়ার্কিং করুন। ইলান্স-
ওডেস্ক এবং ফ্রিলান্সার ছাড়াও বর্তমান সময়ে খুব
জরুরি লিঙ্কডইন প্রোফাইল।ওয়েব থেকে যাঁরা নিয়োগ
করেন তাঁদের অনেকেই এই সাইটে বিভিন্ন প্রোফাইল
ঘেঁটে বেছে নেন লেখক-লেখিকাদের। নিজের কাজের
অভিজ্ঞতার কথা ফলাও করে লেখা ছাড়াও রাখতে
পারেন কিছু লেখার নমুনাও—কোনও ব্লগ বা প্রিন্ট
মিডিয়ায় প্রকাশিত কোনও লেখার স্ক্যানড্ ইমেজ।
এছাড়া আজকাল অনেকেই ফেসবুকে একটি পেজ খুলে
নিয়ে ব্যক্তিগত প্রোফাইলের মাধ্যমে প্রোমোট করেন।
২. ওয়েব কনটেন্ট রাইটিং-এ উপার্জনের পরিমাণের
কোনও সীমা নেই। আর উপার্জন বাড়ানোর সবচেয়ে ভাল
উপায় হলো ‘বিডিং’। নতুন যাঁরা লিখতে আসছেন, তাঁরা
প্রথমেই এই খেলায় নামতে যাবেন না। অন্তত এক
বছরইলান্স-ওডেস্ক এবং ফ্রিলান্সার-এর বিডিংগুলি
ভাল করে লক্ষ করুন। বিডিং হয় এইভাবে– একজন
ক্লায়েন্ট একটি ‘প্রোজেক্ট’ পোস্ট করে ‘বিডিং’-এর
জন্য একটি সময়সীমা দিয়ে দেন। কাজটি কী ধরনের, তার
একটা বর্ণনা দেওয়া থাকে। এর ভিত্তিতে আপনাকে
করতে হবে ‘বিড’– অর্থাৎ কাজটি আপনি করলে কতদিনে
করবেন এবং ‘কত টাকা’-র বিনিময়ে সেটি এই
প্রোজেক্ট-এর থ্রেড-এ লিখতে হবে। ক্লায়েন্ট ‘বিড’-
গুলি পড়ে তার মধ্যে থেকে বেছে নেবে। এখানে
ক্লায়েন্ট দেখবে মূলত চারটি জিনিস— আপনার আগের
কাজের অভিজ্ঞতা,স্কিল টেস্ট-এর ফলাফল, আপনি
ক্লায়েন্ট-এর দেওয়া ডেডলাইনের মধ্যে প্রোজেক্ট
জমা দিতে পারবেন কি না এবং কত কম টাকায় কাজটি
করবেন।
৩. বিড-এ না গিয়ে লিঙ্কডইন, ইলান্স অথবা ফ্রিলান্সার
থেকে ক্লায়েন্ট-এর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি
ফোন করে কথা বলতে পারেন। মনেরাখবেন, মেইল করে
খুব একটা লাভ হয় না। ফোন-এ প্রাথমিক কথা বলে পরে
স্কাইপি-তে যোগাযোগ করলে ভাল। বিদেশি
ক্লায়েন্টরা সাধারণত স্কাইপি-তেই কথা বলতে চান।
‘পে-প্যাল’ এবং পেমেন্ট ওয়েব-এ বেশিরভাগ কাজই
আসে বিদেশ থেকে। সবচেয়ে বেশি আদানপ্রদান হয়
ডলার-এ। এক্ষেত্রে লেনদেনের জন্য নির্ধারিত
একাউন্টের ব্যপারটা যাচাই করে নিতে হবে। ওয়েব
কনটেন্ট রাইটিং নিয়ে একটি বদনাম আছে।
অনেকে কাজ করিয়ে টাকা দেয় না। এমনটা সত্যিই ঘটে।
তাই খুব জরুরি হলো, কাজ হাতে নেওয়ার আগে
ক্লায়েন্ট সম্পর্কে ভাল করে জানা। ক্লায়েন্ট-এর
ওয়েবসাইটে গিয়ে ভাল করে স্টাডি করতে হবে।
তাছাড়া ইলান্স বা ফ্রিলান্সার-এ ক্লায়েন্টরিভিউগুলি
পড়তে হবে। এখানে কাজ করিয়ে-রা যেমন লেখকদের
কাজের মূল্যায়ন করেন, তেমনই লেখকরাও মূল্যায়ন করেন
ক্লায়েন্টদের। যেমনই ক্লা়য়েন্ট হোক না কেন, অর্ধেক
টাকা হাতে নিয়ে তবে প্রোজেক্ট-এ হাত দেবেন। বাকি
টাকার পেমেন্ট হবে ফাইনাল প্রোজেক্ট সাবমিশন-এর
পর।
Read more ...

বিজ্ঞাপন দিন প্রযুক্তি কর্নার-এ। সহজ শর্তে!




সুখবর সুখবর সুখবর! আপনাদের জন্য প্রযুক্তি কর্নার নিয়ে এলো Advertising প্যাকেজ। এই প্যাকেজ এর আওতায় যে কেউ তার কোম্পানি, ওয়েবসাইট, বা যে কোন প্রকার অ্যাড দেখাতে পারেন।
প্যাকেজ এর শর্তাবলীঃ
১। অ্যাড ব্যানার আকারে প্রকাশ করা যাবে।
ব্যানার সাইজ ও মুল্য:

#Size 468*60--  Price Tk. 3500 (চিত্রে প্রদর্শিত 1 নং অ্যাড স্পেস)
#Size 728*90--  Price Tk. 4000 (চিত্রে প্রদর্শিত 2 নং অ্যাড স্পেস)
#Size 300*250-- Price Tk. 2300 (চিত্রে প্রদর্শিত 3 নং অ্যাড স্পেস)
#Size 300*600-- Price Tk. 2300 (চিত্রে প্রদর্শিত 4 নং অ্যাড স্পেস)
#Size 970*90--  Price Tk. 2900 (চিত্রে প্রদর্শিত 5 নং অ্যাড স্পেস)

২। ব্যানার ছয়(০৬) মাস যাবত এই সাইটে স্থায়ী হবে। (সেক্ষেত্রে ব্যানার একটিই হবে এবং পরবর্তীতে চেঞ্জ করা যাবে না) অর্থাৎছয় ( 0৬) মাস যাবত অ্যাড দেয়ার দিন হতে ব্যানারটি অপরিবর্তিত থাকবে।
৩। অ্যাড এর সহায়ক হিসেবে একটি অপরিবর্তিত পোস্ট ০৬ মাসের প্রতি মাসে প্রকাশ করা যাবে। (বিজ্ঞাপনদাতাকে পোস্ট লিখে ইমেইলে পাঠাতে হবে)
৪। ব্যানার এবং পোস্ট এ প্রয়োজনীয় ডিরেক্ট লিঙ্ক দেয়া যাবে।
অ্যাড প্রকাশ করার প্রধান শর্তঃ
১। রাজনীতি, ধর্ম বা কোন প্রকার উস্কানিমূলক বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না।
২। বিকাশে মূল প্যাকেজের ৫০% ব্যানারের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশের দিন পেমেন্ট করতে হবে।
৩। পেমেন্টের জন্য বিকাশ নাম্বার ইমেইলে দেয়া হবে।
৩। ইমেইল- projuktiadd@gmail.com

*প্যাকেজ মুল্য বিবেচ্য
*পরিবর্তন ও পরিমার্জনের সকল ক্ষমতা প্রযুক্তি কর্নার এর অধিকার।

Read more ...

ক্রিকেটে প্রযুক্তির অবদান, ক্রিকেটে ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে খুঁটিনাটি আলোচনা



ক্রিকেটে প্রযুক্তির ব্যবহার দিনে দিনে যেভাবে বাড়ছে, তাতে এটি কেবল খেলোয়াড়দের খেলা নয়, প্রযুক্তিরও খেলা বটে! ক্রিকেটের জনপ্রিয় কিছু প্রযুক্তি নিয়ে এই প্রতিবেদন।ভিডিও বোলিং সিমুলেশন
খেয়াল করবেন, কদিন আগে ‘ভিডিও বোলিং সিমুলেশন’ নামে এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ব্রিসবেনে বাংলাদেশ দলের নেট অনুশীলনে। ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার স্টেডিয়ামের পাশের মাঠে মাশরাফিদের সামনে সেদিন হাজির হয়েছেন মিচেল জনসন-জশ হ্যাজলউডের মতো গতিময় পেসাররা। তবে সেটা বাস্তবে নয়, পর্দায়!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন প্রযুক্তি কর্নার

এই পদ্ধতিতে নেটের ব্যাটসম্যানের অপর প্রান্তে থাকে একটা বড় পর্দা। তাতে ভেসে ওঠে বল হাতে কোনো বোলারের ছবি, সেই বোলার দৌড়ে আসতে থাকেন ব্যাটসম্যানের দিকে, বল ছোড়েনও একটা পর্যায়ে। কিন্তু ব্যাটসম্যানের দিকে সত্যিকারের যে বলটা ধেয়ে যায়, সেটা আসলে আসে পর্দার পেছনে থাকা একটা বল করার যন্ত্র (বোলিং মেশিন) থেকে।
এ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কাছে নতুন হলেও ক্রিকেটে উন্নত দেশের জন্য বেশ পুরোনো। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো আইসিসি এ প্রযুক্তিটি হস্তান্তর করে মার্কিন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান-প্রোব্যাটার স্পোর্টস। একই বছরে দুবাইয়ে আইসিসি গ্লোবাল ক্রিকেট একাডেমিতে সরবরাহ করা হয় প্রোব্যাটার পিএক্স২ ক্রিকেট সিস্টেম।
স্পিড গান
বোলাররা বল করার পরই টিভি পর্দায় ভেসে ওঠে বলের গতি। বোলার ঘণ্টায় কত মাইল বা কিলোমিটার বেগে বল করলেন, সেটির ওপর বিশেষ নজর থাকে সবার। বলের এ গতি মাপা হয় ‘স্পিড গান’ প্রযুক্তির মাধ্যমে। পদ্ধতিটি ক্রিকেটে নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে ১৯৯৯ সাল থেকে।
যন্ত্রটি বসানো হয় সাইট স্ক্রিনের বেশ ওপরে। এটি গতি মাপে রাডার-বিমের সংকেতের সাহায্যে। বল পিচ করার পর পুরো লেংথ শনাক্ত করে এটি। আর পুরো পদ্ধতিটি সম্পন্ন হয় ক্ষুদ্রতরঙ্গ প্রযুক্তির মাধ্যমে। তবে বাতাসের গতি এখানে কোনো ভূমিকা রাখে না। ক্ষুদ্রতরঙ্গগুলো এতটাই শক্তিশালী, যেকোনো আবহাওয়ায় তা ভেদ করতে পারে। কেবল ক্রিকেটে নয়, এ প্রযুক্তি ব্যবহার হয় টেনিসেও।
স্পাইডার ক্যামেরা
২০১৪ সালের এপ্রিলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দর্শকেরা নিশ্চয় দেখেছেন, মাঠে উড়ে উড়ে খেলোয়াড়দের নানা মুহূর্ত ধারণ করছে একটি ক্যামেরা। খেলা চলার সময় খেলোয়াড়দের একদম হাতছোঁয়া দূরত্বে চলে যাচ্ছে সেটি!
স্পাইডারক্যাম প্রথম তৈরি হয় ২০০০ সালে, আর এর নেপথ্যের কারিগর অস্ট্রিয়ার প্রযুক্তিবিদ জেনস সি পিটার্স। এর সফল ব্যবহার হয় ২০০৩ সালে। এরপর ক্রমেই খেলাধুলায় বাড়তে থাকে এ প্রযুক্তির ব্যবহার। সাধারণ ক্যামেরার সঙ্গে এর মূল পার্থক্য—নির্ধারিত এলাকায় উল্লম্ব ও অনুভূমিকভাবে ইচ্ছেমতো নড়াচড়া করতে পারে ক্যামেরাটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে এর ব্যবহারে কিছু সমস্যাও দেখা দিয়েছে। কদিন আগে, ভারতের বিপক্ষে সিডনি টেস্টে একটি ক্যাচ হাতছাড়া করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। পরে জানা যায়, স্পাইডার ক্যামেরায় লাগায় বলটি তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন স্মিথ!

বড় পর্দা
বড় পর্দা অন্য খেলাগুলোতে নিয়মিত ব্যবহৃত হলেও ক্রিকেটে এর তাৎপর্য ভিন্ন। ক্রিকেটে এর দুই রকম ব্যবহার। একদিকে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড হিসেবে। অন্যদিকে ঢাউস এলইডি পর্দায় ভেসে ওঠে ঝকঝকে ভিডিও, অ্যানিমেটেড ছবি, গ্রাফিকস ইত্যাদি।
এ ছাড়া ব্যাটসম্যানের শট খেলা ও আউট হওয়ার ধরন, বোলারের ডেলিভারি প্রভৃতির বিশ্লেষণ মুহূর্তেই মেলে পর্দায়। একজন বোলার বা ব্যাটসম্যানের দুর্বলতাগুলোও বাদ যায় না। দিনে দিনে আরও নানা বিষয় সংযোজিত হচ্ছে পর্দায়। খেলোয়াড় তো বটেই, দর্শকেরও দৃষ্টি থাকে বড় পর্দায়। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) বসানো হয়েছে নতুন প্রযুক্তির বড় পর্দা। ২৫ মিটার প্রস্থ ও ১৩ মিটার উচ্চতার এলইডি পর্দায় দর্শকেরা খেলার খুঁটিনাটি দেখতে পাবেন অনায়সে।

ডিআরএস—প্রযুক্তি যখন বিচারক
আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হওয়া ক্রিকেটে খুব পরিচিত দৃশ্য। খেলোয়াড়েরা এখন সহজেই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। চ্যালেঞ্জটা হয় ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) পদ্ধতিতেই। যদিও এটি নিয়ে কম-বেশি বিতর্ক রয়েছে ক্রিকেট দুনিয়ায়। তবে পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় এর পক্ষে সমর্থন বেশি। ডিআরএসে ব্যবহৃত হয় তিনটি পদ্ধতি-হক-আই, হটস্পট ও স্নিকোমিটার।

হক-আই
বোলিং ডেলিভারিকে পাখির চোখে বিশ্লেষণ করা হয় এ পদ্ধতিতে। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী পল হকিন্সের আবিষ্কার করা এ পদ্ধতি প্রথম ব্যবহার করে চ্যানেল ফোর। আবিষ্কর্তার নামানুসারে ‘হক-আই’। প্রথম ব্যবহার ২০০১ সালের অ্যাসেজে।
বল পিচ করে স্টাম্পে নাকি বাইরে বা ওপর দিয়ে চলে যেত—এর পরিষ্কার বিশ্লেষণ মিলবে এ প্রযুক্তিতে। সাধারণত সংশয়মূলক এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত নিতে এ পদ্ধতির ব্যবহার। টেনিস তো বটেই, বর্তমানে ফুটবলের গোললাইন প্রযুক্তিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।

স্নিকো-মিটার
স্নিকো-মিটারের কাজ শব্দ শনাক্ত করা। উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন মাইক্রোফোনের মাধ্যমে শনাক্ত হয় এ শব্দ। বল প্যাডে লাগল নাকি ব্যাটে, তা নির্ধারণ করা হয় শব্দের মাধ্যমে। এটি আবিষ্কার করেন ইংলিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালান প্লাসকেট।

হটস্পট
অনেক সময় বল ব্যাটে লাগল নাকি প্যাড বা গ্লাভসে, তা নিয়ে ঢের বিতর্ক! এ বিতর্ক নিরসনে ব্যবহার করা হয় হটস্পট প্রযুক্তি। এটি মূলত ইনফ্রা-রেড রশ্মি দিয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থা। দুটি শক্তিশালী থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা থাকে মাঠের দুই প্রান্তে। বলের সঙ্গে যে কোনো বস্তুর (ব্যাট, প্যাড, গ্লাভস বা খেলোয়াড়ের শরীর) ঘর্ষণের মুহূর্তে উৎপন্ন তাপ দূর থেকে দ্রুত পরিমাপ করতে পারে ক্যামেরা দুটি। এরপর বস্তুটির যে অংশে বলের ঘর্ষণ লাগে, কম্পিউটারে উৎপন্ন নেগেটিভ ছবিতে স্থানটি লাল দাগে চিহ্নিত হয়। তবে আইসিসি জানিয়েছে, এ বিশ্বকাপে হটস্পট প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে না।
Read more ...

মানুষের মস্তিষ্কে বহিরাগত স্মৃতি প্রবেশ করানোর কৌশল উদ্ভাবিত



জাপানের গবেষকরা এমন একটি কৌশল উদ্ভাবন করেছে যার সাহায্যে এখন মানুষের মস্তিষ্কে মিথ্যা তথ্য বা ভুল স্মৃতি প্রবেশ করানো সম্ভব হবে। এটি এমনকি ব্যক্তির চিন্তাধারা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ধারাকে পালটে ফেলতে পারবে। ‘কারেন্ট বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধ এমন বাস্তবতার কথাই জানান দিচ্ছে। এই নিবন্ধে গবেষকদল বিবরণ দিয়েছেন কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ব্যক্তি বুঝতেই পারবে না কোনটি তার নতুন স্মৃতি আর কোনটি তার অভিজ্ঞতালব্ধ পুরাতন স্মৃতি। কীভাবে ব্যক্তির অনুভূতিকে জানতে না দিয়েই এমনটা করা সম্ভব, তার বিবরণ দেয়া হয়েছে ঐ নিবন্ধে।

মস্তিষ্কে নতুন করে বহিরাগত স্মৃতি, ঘটনা ও অভিজ্ঞতা প্রবেশ করাতে পারলে সেটি হবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য বড় এক মাইলফলক। এর মাধ্যমে খুলে যেতে পারে চিকিৎসার অনন্য এক পথ। যেমন অলঝেইমার নামক মারাত্মক মানসিক রোগের জন্য চমৎকার এক ট্রিটমেন্ট হতে পারে এই পদ্ধতি। তাছাড়াও কগনেটিভ ডিজঅর্ডার, ডিপ্রেশন ও অটিজমের চিকিৎসায় এটি হতে পারে চমৎকার এক উপায়। এমন সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছেন এই গবেষণার প্রধান ‘তাকিও ওয়াতানাবে’। শুধু তাই নয়, রোগী ও পরিস্থিতি যদি অনুকূলে থাকে তাহলে মস্তিষ্ক থেকে কিছু স্মৃতি বা অভিজ্ঞতা মুছেও ফেলা যাবে। যেমন কারো জীবনে ঘটে যাওয়া মারাত্মক কোনো ঘটনা তার পরবর্তী জীবনকে বরবাদ করে দিতে পারে। এমন ক্রান্তি অবস্থানে চলে এলে মস্তিষ্ক থেকে এই স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব। নাজুক ও নেতিবাচক স্মৃতি কমে গেলে সেটি মানসিক ডিজঅর্ডার থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে।

এই পরীক্ষার একদম শুরুর দিকে গবেষকরা ব্যক্তির মস্তিষ্কে দৃশ্যগত সামান্য বিকৃতি এনে দেন। মস্তিষ্কের যে অঞ্চলে রঙ সংক্রান্ত অনুভূতি নিয়ে কার্যক্রম চলে সে অঞ্চলে এমন কিছু করা হয় যার মাধ্যমে ব্যক্তি কালো জিনিসকে লাল হিসেবে দেখার জন্য নির্দেশিত হয়। পরে তাদেরকে কিছু রঙ সনাক্ত করতে বলা হয়। সনাক্তকরণের সময়ে তাদের মস্তিষ্কের সকল কার্যক্রম fMRI মেশিন দিয়ে স্ক্যান করা হয়। এবং এই স্ক্যানে ইতিবাচক সারা পাওয়া যায়। স্ক্যানে দেখা যায় মস্তিষ্কের যে অঞ্চল লাল রঙের জন্য সাড়া দেয় সেই অঞ্চল উদ্দীপিত হচ্ছে।

অনেকটা সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ‘ম্যাট্রিক্স’-এর কল্পনার মতো শোনাচ্ছে। বাস্তব জগতে কী হবে না হবে, কী দেখা যাবে না যাবে, কী অনুভূত হব না হবে তার সবই নির্ভর করে মস্তিষ্কের একগুচ্ছ বিক্রিয়ার উপর। চলচ্চিত্রে যেমন দেখানো হয় গাড়ি চালাতে না পারলে মস্তিষ্কে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা ইন্সটল করা হয় অনেকটা এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিতই যেন দিচ্ছে। ভাবা যায় এই পদ্ধতি কতটা বিপ্লব নিয়ে আসতে পারে?

মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করার কয়েকদিন পরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদেরকে অনেকগুলো রঙের নড়াচড়া দেখতে দেয়া হয় এবং রঙগুলো সনাক্ত করতে বলা হয়। এখানেও দেখা যায় তারা কালো রঙকে লাল হিসেবে দেখছে। অর্থাৎ এই প্রক্রিয়া মস্তিষ্কে কিছু সময়ের জন্য স্থায়ী হয়েছে। গবেষকরা দেখতে পান প্রবেশ করানো এই স্মৃতি বা অভিজ্ঞতা ৫ মাস পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে।

তবে এই পদ্ধতির অনেক নেতিবাচক সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। ভুলভাবে ব্যবহার করলে এটি দিয়ে মানবজাতির জন্য অনেক ক্ষতিকর কিছু বয়ে নিয়ে আসতে পারে। তবে আমরা আশা করতে পারি এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র মানুষের উপকারের জন্যই চিকিৎসাবিজ্ঞান সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।
Read more ...

খাবার প্লেটে শীঘ্রই শোভা পাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি মুরগির মাংস



মানুষকে বলা যায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খুনি প্রজাতি। মানুষ যে পরিমাণ গরু জবাই করে সে পরিমাণ গরু মনে হয় না প্রাণিজগতের বাকি সবাই মিলে মারতে পারে। গরুর পাশাপাশি মানুষ মুরগিও খায় প্রচুর। খাদ্য হিসেবে মুরগির ব্যবহার পরিমাণের দিক থেকে এতই বেশি যে তার তুলনায় গরুর পরিমাণ কিছুই নয়। মুরগির উপর এমন বেশি নির্ভরশীল হয়ে যাওয়া একটি প্রজাতির জন্য নেতিবাচক। কোনো প্রজাতিতে বৈচিত্র্য যত কম তার বিলুপ্তির হুমকিও ততো বেশি। তার উপর ইদানীং প্রাণী মেরে খাদ্য না খাওয়ার ব্যাপারে একধরনের জনসমর্থন গড়ে উঠছে। ভবিষ্যতে খাদ্য হিসেবে প্রাণী বা মুরগি না মারাটা হয়ে যেতে পারে নৈতিকতার অংশ- যে যত কম প্রাণী হত্যা করে থাকতে পারবে সে তত বেশি নীতিবান। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের খুব সহজলভ্য খাবার মুরগি না থাকলে কী গোলমেলে অবস্থা হবে তা ভাবা যায়?

তবে যেখানে বিজ্ঞান আছে সেখানে এত বেশি ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ইজরায়েলের বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্রযুক্তির পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন যা বাস্তবায়িত হলে মানুষ খাবার জন্য মাংস পাবে কিন্তু তার জন্য কোনো মুরগিকে মারতে হবে না। কৃত্রিমভাবে মুরগির মাংস উৎপাদন করার জন্য বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে Modern Agriculture Foundation (MAF) নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

MAF এর প্রতিষ্ঠাতা শার ফ্রিডমান বলেন- “আমাদের একটি গ্রুপ অনুধাবন করতে পারে যে, জরুরীভাবে বিশ্বের মানুষদের এখন এমন কিছু দরকার যা তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে পারবে এবং এর ফলে প্রাণিজগৎ ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।”

তিনি আরো বলেন “আমরা যখন কালচারের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে মুরগির মাংস তৈরির বাস্তবতা সম্বন্ধে জেনেছিলাম তখনই অনুধাবন করতে পেরেছিলাম এটিই পালটে দিতে পারে পৃথিবীকে। এটিই দূর করতে পারে গণহারে প্রাণী নিধন এবং এটিই মানুষকে খাদ্য প্রদানের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।”

এর পর থেকে তার টিম কাজে লেগে পড়ে। কাজের উন্নয়নের জন্য এই টিম তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়েরগবেষকদের সাথে যোগ দেয়। তাদের সাথে একত্র হয়ে এমন একটি পদ্ধতির উন্নয়ন করেন যেখানে একটি মাত্র কোষ থেকে অনেকগুলো কোষ তৈরির মাধ্যমে কৃত্রিম মুরগি তৈরি করা যায়।

কৃত্রিম মাংস তৈরির জন্য তারা প্রথমে একটি পুষ্টিকর মাধ্যমে (medium) নিয়ন্ত্রিত উপায়ে স্টেম কোষ চাষ করেন। তাদের এই পদ্ধতি যদি ঠিকঠাক মতো কাজ করে তাহলে এই মাংসের স্বাদ আর সত্যিকার মাংসের স্বাদ একই হবে। কারণ মাংস কৃত্রিম হলেও এতে প্রাকৃতিক জিনিসই ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর বৈশিষ্ট্যও মাংসের মতোই।

এর জন্য তাদের খুব বেশি প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় যেতে হয়নি। ভিন্নভাবে সাধারণ কিছু জৈব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেই এই ফলাফলে উপনীত হয়েছেন। তাদের দাবী অনুসারে তারা শুধু কোষগুলোকে মাংস হবার পথ ধরিয়ে দিয়েছেন। জৈব কোষ ভালো করেই জানে কীভাবে অনেকগুলো কোষ মিলে মুরগি বা অন্য কিছুর অঙ্গের মতো গঠন ধারণ করতে হয়। এখানে জৈব কোষ নিজে নিজেই জৈবিক আকার পায়। অর্থাৎ ধরিয়ে দেয়া পথে সহজেই মুরগির রান বা অন্য কোনো অঙ্গের মতো আকার ধারণ করে।

সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তৈরি করা হলেও এই কৃত্রিম মাংস এখনো গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা হয়তো শীঘ্রই নিজেদের খাবার প্লেটে এমন কৃত্রিম মাংস দেখতে পাবো।
Read more ...

জ্বালানী সাশ্রয়ী ও দ্রুত আকাশ পথ পাড়ি দিতে আসছে প্লাজমা জেট ইঞ্জিন



কল্পনা করুন এমন এক জেট ইঞ্জিনের কথা যা একটি মহাকাশযানকে প্রচলিত ইঞ্জিনের চেয়ে বেশী দ্রুত পরিচালিত করছে এবং তার ফলে আপনাকে খুব দ্রুতই পৃথিবীর আবহাওয়ার বাইরে নিয়ে গেলো। আর এসব কিছুই ঘটছে কোনরূপ জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়াই এবং অতি অল্প খরচে।

ঠিক এ কাজটিই করবে একটি প্লাজমা জেট ইঞ্জিন। যদিও এই ইঞ্জিনটির গবেষণা এখনো গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং এর প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে স্যাটালাইট ও অন্যান্য মহাকাশযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করার।

আর এখন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের গবেষকগণ চেষ্টা করছেন এই ইঞ্জিনকে গবেষণাগারের বাইরে নিয়ে আসার। প্রচলিত জেট ইঞ্জিনগুলি থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরীর জন্য জ্বালানীর সাথে বাতাস সঙ্কুচনের একটি মিশ্রণ ব্যবহার করে থাকে। এই মিশ্রণ পোড়ানোর মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধির করার মাধ্যমে একটি ইঞ্জিনের পেছন দিকে যায় এবং যানটিকে সামনের অগ্রসর হতে সাহায্য করে। প্লাজমা জেট ইঞ্জিন তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরীর জন্য জ্বালানীর পরিবর্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকে।

টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনে বারকান্ট গোকেলে এবং তাঁর দল এই প্লাজমা জেট ইঞ্জিনকে একটি বিমানে স্থাপন করতে যাচ্ছেন। তাঁরা বলেন, “আমারা এমন এক পদ্ধতি গড়ে তুলতে চাই, যা ৩০ কিলোমিটার উপরেও চলতে পারবে যেখানে প্রচলিত জেট ইঞ্জিন যেতে পারে না।” আর এটি যাত্রীদের বায়ুমন্ডলের শেষভাগে কিংবা এর বাইরেও নিয়ে যেতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের বিষয়টি হচ্ছে, এমন একটি বায়ু-শোষক প্লাজমা পরিচালিত ইঞ্জিন গড়ে তোলা যা এই বিশাল উচ্চতায় উড়ার জন্য উড্ডয়ন করতে পারবে।

প্লাজমা জেট ইঞ্জিনকে একটি ভ্যাকুয়াম অথবা কম চাপের বায়ুমন্ডলে কাজ করার মতো করে নকশা করা হয়েছে, যেখানে তাদের একটি গ্যাস সরবরাহক বহন করতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে গোকেলের দল এমন একটি ইঞ্জিনের পরীক্ষা চালিয়েছে যা একটি বায়ুমন্ডলের চাপে বায়ুতেই কাজ করতে পারে। “আমরাই সর্বপ্রথম সর্বনিম্ন পর্যায়ের দ্রুতগতির ও শক্তিশালী প্লাজমা জেট উৎপাদন করতে পেরেছি। এই জেট ইঞ্জিনটি সেকেন্ডে ২ কিলোমিটারের বেশী গতিতে পৌঁছুতে পারে।” দলটি ইঞ্জিন চালু করার জন্য ন্যানোসেকেন্ডের ইলেকট্রিক ডিসচার্জের দ্রুতগতির প্রবাহ ব্যবহার করেছেন যা একে জ্বালানী-চালিত ইঞ্জিনের চেয়ে বেশী দক্ষ করে তুলেছে। আর প্লাজমা থ্রাস্ট বিস্ফোরন প্রয়োগের এটাই প্রথম কোন ঘটনা।

কিন্তু এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোন বিমানকে পরিচালিত করতে হলে কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবে। উড্ডয়ন শুরুর জন্য দলটি ৮০ মিলিমিটারের ক্ষুদ্র থ্রাস্ট ব্যবহার করেছেন, যেখানে একটি বাণিজ্যিক বিমান উড়তে এরকম প্রায় ১০,০০০ থ্রাস্টের প্রয়োজন পড়ে। এই সমস্যা বর্তমান নকশাকে অনেকটা জটিল করে তুলেছে। আপাতত সমস্যা এড়িয়ে যেতে গোকেলের দল ছোট আকারের বিমান বেছে নিয়েছেন যাদের থ্রাস্ট ১০০ থেকে ১০০০ এর মধ্যে থাকবে। আর তাঁদের ধারণা এটা নির্মান করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হবে।

তবে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে হালকা ওজনের ব্যাটারির অভাব। প্লাজমা তৈরী ও বজায় রাখতে হলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন। গোকেলে আশা করছেন, তাঁর পদ্ধতিকে পরিচালিত করতে কমপ্যাক্ট ফিউশন রিএকটরের ব্যবহার করবেন। অন্যান্য সম্ভাব্য বিকল্পগুলির মাঝে রয়েছে সৌর প্যানেল কিংবা ইঞ্জিনগুলিকে বিনা তারে শক্তি প্রেরণ করার ব্যবস্থা করা।

এরই মধ্যে তিনি হাইব্রিড বিমানের দিকে নজর দিচ্ছেন, যেখানে প্লাজমা ইঞ্জিনকে কম্পন বিস্ফোরক জ্বালানী ইঞ্জিন কিংবা রকেটের সাথে সংযুক্ত করে জ্বালানী সাশ্রয় করা যাবে।
Read more ...

পৃথিবীর অর্থনীতির পতন ঘটাতে পারে এমন ধাতব গ্রহাণু অনুসন্ধানে নাসা



সাইকি-১৬ গ্রহাণু আমাদের সৌর জগতের অন্যতম একটি বিস্ময়কর বস্তু যা পৃথিবী থেকে প্রায় ২৩ কোটি মাইল দূরে অবস্থান করছে। কিন্তু দূরবর্তী এই গ্রহাণুটিই আমাদের জন্য সৌভাগ্যের কারণ হতে পারে।
সম্প্রতি মহাকাশ সংস্থা নাসা এই গ্রহাণুর উদ্দেশ্যে একটি অভিযান পরিচালনার ঘোষণা করেছেন। পূর্বের পরিকল্পনার চেয়ে এক বছর আগেই এই অভিযান শুরু হবে। মূলত ২০২৩ সালে হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ২০২২ সালে করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যা ২০২৬ সালে গ্রহাণুর কাছে পৌছুবে।
গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীর একটি মানব চরিত্র সাইকির নামানুসারে এর নামকরন করা হয়, যে কিনা অমরত্ব লাভ করেছিলো। সাইকি ১৬ গ্রহাণু অঞ্চলে আবিষ্কৃত এযাবতকালের সবচেয়ে বড় গ্রহাণু যা প্রচুর ধুলোচ্ছান্ন অবস্থায় রয়েছে। এটি বৃহস্পতি এবং মঙ্গল গ্রহের মাঝামাঝি বৃহত্তম গ্রহাণু অঞ্চলে অবস্থিত এবং সৌর জগৎ সৃষ্টির সময় আংশিকভাবে ধ্বংস হওয়ার আগে হয়তো একটি গ্রহ অবস্থাতেই ছিলো।
১৩০ মাইল প্রশস্ত এই ধাতব টুকরোটি লোহা, নিকেল এবং আরও কয়েকটি বিরল ধাতু দিয়ে তৈরী। যার মাঝে সোনা, প্লাটিনাম এবং তামা অন্যতম। যদি গ্রহাণুটিকে পৃথিবীতে ফেরত আনা হয় তবে শুধুমাত্র এর লোহার মূল্যই হবে প্রায় দশ হজার কোয়াড্রিলিয়ন ডলার। আর সেইসাথে সাইকি-১৬ পৃথিবীবাসীকে শীলা বা বরফের পরিবর্তে লোহার তৈরী কোন বিশ্ব আবিষ্কারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে।
অপরদিকে গ্রহাণুটির এই মূল্য পৃথিবীর পণ্যমূল্য কমাতে এবং বিশ্বের অর্থনীতিতে ৭৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
পৃথিবীতে গ্রহাণু পদার্থের বাজার অনুমান করলে দেখা যায়, এটি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য হ্রাস করতে পারে এবং এর ফলে সরকারী সম্পদসহ অন্যান্য সম্পত্তির মূল্য সম্পূর্ণরূপে অবমূল্যায়ীত হবে। সাথে সাথে যে সকল কোম্পানী এসব উত্তোলন, বাজারজাতকরণ এবং এর বাণিজ্যের সাথে যুক্ত তারাও ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আর সামগ্রিকভাবেই এটি অর্থনীতিকে পতনের দিকে ধাবিত করবে।
অভিযান পরিচালনাকারী দলটি দেখবেন সাইকি কি কোন পূর্ববর্তী গ্রহের কেন্দ্র ছিলো কিনা, এর বয়সই বা কত কিংবা এটা কি পৃথিবীর কেন্দ্রের মতোই গঠিত হয়েছে কিনা অথবা এর পৃষ্ঠতল দেখতে কেমন।
নাসা সদর দপ্তরের পরিচালক জিম গ্রিন বলেন, “আমরা গ্রহাণু সাইকির আবর্ত পথকে আরও কার্যকর করার জন্য এই অভিযান এগিয়ে নেয়ার নকশাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আর এটাই আমাদের বিজ্ঞানের উদ্দেশ্যকে দ্রুত পূরণ এবং ব্যায় কমাতে সক্ষম করে তুলবে।”
মহাকাশযানটির যন্ত্রপাতির মধ্যে একটি ম্যাগনেটোমিটারের সাথে মাল্টিস্পেকট্রাল ইমেজার এবং একটি গামা রশ্মি ও নিউটন স্পেকট্রমিটার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নাসার প্রধান অভিযান বিজ্ঞানী এবং এরিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক লিন্ডি এলকিন্স বলেন, “এজাতিয় সৌর জগতের একমাত্র পরিচিত গ্রহাণু হচ্ছে সাইকি-১৬ আর শুধুমাত্র এই পদ্ধতির অভিযানের মাধ্যমেই মানুষ একটি কোর বা কেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারবে। আমরা বহিঃমহাকাশ পরিদর্শন করে ভেতরের আমরা পৃথবীর বায়ুমন্ডলের বাইরে গিয়ে পৃথবী ভেতরের অনেক তথ্যই জানতে পারি।”
গ্লোবাল নিউজ কানাডাকে ড. এলকিন্স-ট্যান্টন বলেন, “যদি আমরা একটি বিশাল ধাতুর টুকরো ধরতে পারি এবং সেটা পৃথিবীতে নিয়ে আসি, তবে আপনি কি করবেন?”
“আপনি কি এর উপর বসে পড়বেন এবং একে গোপন করে বিশ্বের অন্য সকল সম্পদ যেমন হীরার মতো মূল্যবান ধাতুকে নিয়ন্ত্রণ করে আপনার ব্যাবসার বাজার রক্ষা করবেন? এমনকি আপনি যদি একে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে মানুষের সকল ধাতব সম্পদের সমস্যা সমাধান করতে চান তবে এটা অবশ্যই একটি বন্য আসক্তি হয়ে যাবে।”
গ্রহাণুটিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার কোন পরিকল্পনা নাসার নেই কিন্তু এর পরিবর্তে মহাকাশ সংস্থাটি আবিষ্কার করতে চেষ্টা করবে কীভাবে একটি গ্রহ এর স্তর থেকে বিভক্ত হয়েছে। [ডেইলি মেইল- অবলম্বনে]
Read more ...

বিগ ব্যাং নাকি বিগ বাউন্স?




আমাদের জানা মহাবিশ্ব ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি সিঙ্গুলারিটি বিন্দু থেকে শুরু হয়েছিল। ঐ বিন্দু থেকে বিস্ফোরণের পর প্রসারণের মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময় পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছে। এটিই বিগ ব্যাং বা বৃহৎ বিস্ফোরণ তত্ত্ব নামে পরিচিত। বিগ ব্যাং তত্ত্ব প্রদান করার পর থেকে মহাবিশ্বকে ভালোভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারছিল। এবং এর সত্যতার পেছনে সমর্থন দেবার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য-প্রমাণও আছে। তবে প্রচুর তথ্য-প্রমাণ ও সমর্থন থাকলেও তা সকল প্রশ্ন বা সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। যেমন মহাবিশ্বের একদম প্রাথমিক পর্যায়ে অতিছোট বিন্দুবৎ অবস্থায় থাকার সময়ের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না বিগ ব্যাং তত্ত্বের মাধ্যমে।

যখন থেকে বিগ ব্যাং তত্ত্বের এই সীমাবদ্ধতা ধরা দেয় তখন থেকেই এর বিকল্প তত্ত্ব অনুসন্ধান শুরু হয়। সময়ে সময়ে মহাবিশ্বকে পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য বেশ কয়েকটি জটিল তত্ত্ব প্রস্তাবও করা হয়। এর মাঝে একটি হচ্ছে বিগ বাউন্স তত্ত্ব। এই তত্ত্ব আজ থেকে অনেক আগেই প্রস্তাবিত হয়েছিল। তবে প্রস্তাবিত হলেও যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। সম্প্রতি এক দল বিজ্ঞানী এটি নিয়ে কাজ করে একে অধিকতর উপযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ড. স্টিফেন গিলেন ও কানাডার ইন্সটিটিউট অব থিওরিটিকাল ফিজিক্সের নিল টুরক আছেন এর পেছনে। তারা মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করার জন্য অধিকতর উপযুক্ত, অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও অধিকতর প্রয়োগযোগ্য একটি তত্ত্বের পেছনে কাজ করেন। তাদের গবেষণা শেষে বেরিয়ে আসে বিগ বাউন্স তত্ত্বই বিগ ব্যাংএর চেয়ে বেশি উপযুক্ত।

ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে তারা ব্যাখ্যা করছেন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কিছু নিয়মের প্রভাবে সিঙ্গুলারিটি বিন্দু প্রস্তুত হবে না। হতে চাইলেও ঐ প্রভাব তা দমিয়ে রাখবে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ঐ প্রভাব কার্যকর আছে বলেই এখনকার পরমাণুর ইলেকট্রনগুলো প্রোটনের আকর্ষণে নিউক্লিয়াসে পড়ে যায় না।

বিগ বাউন্স তত্ত্ব আজ থেকে শত বছর আগেই প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই তত্ত্ব অনুসারে মহাবিশ্ব কোনো একটি বিন্দুবৎ অবস্থা থেকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে তৈরি হয়নি। মহাবিশ্ব চিরকালই অস্তিত্ববান ছিল। এই তত্ত্ব শুনতে অনেকটা স্থির মহাবিশ্ব তত্ত্বের মতো হলেও এটি স্থির মহাবিশ্বকে বাতিল করে দেয়।

এই তত্ত্ব অনুসারে মহাবিশ্ব সংকোচন ও প্রসারণের চক্রের মাধ্যমে চলছে। অনেকটা বেলুনের মতো, খুব স্থিতিস্থাপক কোনো বেলুনকে ফুলালে ফুলতে ফুলতে একসময় তা ক্রান্তি অবস্থানে এসে পৌঁছাবে। তারপর অল্প অল্প করে বাতাস চলে যেতে দিলে তা ধীরে ধীরে সংকুচিত হবে। সর্বনিম্ন পরিমাণ সংকোচনের পর তা আবার প্রসারিত হওয়া শুরু করবে। বিগ বাউন্স অনুসারে মহাবিশ্ব অনেকটা এরকমই। চক্রাকারে সংকুচিত হচ্ছে এবং প্রসারিত হচ্ছে। যখন সংকোচনের ক্রান্তি পর্যায়ে চলে আসে তখন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কিছু নিয়মের প্রভাবে আরো সংকোচিত হয়ে ক্ষুদ্র বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটি তৈরি করতে পারে না। ঐ অবস্থান থেকে আবার প্রসারণ শুরু হয়ে যায়। চক্রাকার এই ব্যাপারটাকে পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় স্পন্দন হিসেবে ভাবা যেতে পারে।
Read more ...

আসছে থোরিয়াম জ্বালানির মোটর ইঞ্জিন, মাত্র ৮ গ্রামে ১০০ বছর চলবে



আসছে থোরিয়াম জ্বালানির মোটর ইঞ্জিন, মাত্র ৮ গ্রামে ১০০ বছর চলবে- বর্তমানে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় জিনিস হচ্ছে জ্বালানি। বিজ্ঞানীরা নানান গবেষণা চালাচ্ছেন সহজলভ্য এবং দীর্ঘ সময় চলে এমন জ্বালানি তৈরি করতে, সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিজ্ঞানিরা তৈরি করছেন থোরিয়ামের সাহায্যে চলবে এমন ইঞ্জিন।
ইতোমধ্যে Laser Power Systems (LPS) নামের মার্কিন কোম্পানি জানিয়েছে তারা এমন এক জ্বালানি ইঞ্জিন তৈরির দ্বার প্রান্তে যাতে একবার জ্বালানি ভরে প্রায় ১০০ বছর ব্যবহার করা যাবে!
Laser Power Systems (LPS) হচ্ছে প্রকৃত পক্ষে একটি প্রতিষ্ঠান যাদের কাজ হচ্ছে এমন এক জ্বালানি খুঁজে বাহির করা যার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কম হবে একই সাথে যা স্বল্প ব্যবহারে দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন চালাতে পারবে।
Laser Power Systems (LPS) গবেষণায় দেখা গেছে থোরিয়াম হচ্ছে তেমন একটি জ্বালানি যা খুবি অল্প পরিমাণে মেশিনকে নিয়ে যেতে পারবে চরম অবস্থায়। একই সাথে থোরিয়াম পরিবেশের জন্যও ঝুঁকি পূর্ণ নয়। থোরিয়াম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের প্রচেষ্টা সেই ২০০৯ সাল থেকেই শুরু হয়েছে।
থোরিয়াম ব্যবহারযোগ্য ইঞ্জিন তৈরির ক্ষেত্রে গবেষকরা নানান গবেষণা এবং অনেক ইঞ্জিন পর্যবেক্ষণ শেষে ৫০০ পাউন্ড ওজনের সাধারণ গাড়ির ইঞ্জিনের মতোই দেখতে একটি ইঞ্জিন তৈরি করেছেন যা সফল ভাবেই থোরিয়াম জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে।
এই ইঞ্জিনে মাত্র ৮ গ্রাম থোরিয়াম দিয়ে একটি গাড়ি প্রায় ১০০ বছর রাস্তায় চলতে পারবে মাঝে তাকে আর জ্বালানি নিতে হবেনা।Laser Power Systems (LPS) এর প্রধান নির্বাহী Charles Stevens বলেন, “থোরিয়াম একটি উচ্চ ক্ষমতায় জ্বালানি এটির সামান্য পরিমাণ দিয়ে একটি গাড়ি অনেক পথ যেতে পারবে একই সাথে মাত্র ১ গ্রাম থোরিয়াম ৭৩৯৬ গ্যালন অর্থাৎ ২৮,০০০ লিটার পেট্রোলের সমান।
“এছাড়া থোরিয়াম ক্ষমতার দিক দিয়ে এবং নিরাপত্তার দিক দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ইউরিয়াম থেকে অনেক নিরাপদ। ফলে জ্বালানি ইউরিনিয়ামের বিকল্প হিসেবে থোরিয়াম ব্যবহার করা যেতে পারে যাতে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তাও নেই।
Read more ...

ক্রায়োনিক্স বা মৃতদেহকে জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।




সায়েন্স ফিকশন বা হরর মুভি, যেখানে আমরা প্রায়ই দেখি কোনো পাগলাটে বিজ্ঞানীর ল্যাবরেটরি থেকে কিংবা কোনো স্পেসশিপের ঢাকনা খুলে বরফাচ্ছাদিত শীতল কক্ষ থেকে এক দল মানুষ বা এ্যলিয়েন বের হয়ে আসছে যারা কিনা মৃতের মত ঘুমিয়ে ছিল শত শত বছর। আট-দশটা সাধারণ মানুষের মত তাদের চলা-ফেরা, বিশেষ কোনো মিশন নিয়ে শত বছর পরের পৃথিবীতে জেগে উঠেছে তারা। আমরা এসব দেখে শিহরিত রোমাঞ্চিত হই। কিন্তু পাঠক কখনো কি ভেবে দেখেছেন বাস্তবে এটি সম্ভব কিনা? সম্ভব হবে আপনার আমার প্রিয়জনকে এভাবে মৃত্যুঘুম থেকে জাগিয়ে তোলা? সবাই একবাক্যে না বললেও বিজ্ঞান আমাদের কথা মানতে নারাজ। আজকের বিজ্ঞানের দ্বারা সম্ভব না হলেও অনেক বিজ্ঞানীই কিন্তু মনে করেন একশো বছর, দুইশ বছর কিংবা তিনশো বছর পরের বিজ্ঞান হয়ত পারবে মৃতদেহকে জীবনে ফিরিয়ে আনতে আর এভাবেই ক্রায়োনিক্স প্রযুক্তির উদ্ভব।

ক্রায়োনিক্সকে সরাসরি প্রযুক্তি বললে ভুল হবে এটি হচ্ছে মূলত বিজ্ঞান এবং বিশ্বাসের মিশেল। আমরা যেভাবে খাদ্য ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করি ঠিক সেভাবেই এক বিশেষ উপায়ে রাসায়নিক প্রয়োগে মৃতদেহকে রাখা হয় অত্যন্ত শীতল অবস্থায় যাতে করে মানুষের দেহের কোষগুলো নষ্ট না হয়। কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গর যেন বিন্দু মাত্র ক্ষতি না হয়, ঠিক যেন একজন সাধারণ মানুষ ঘুমিয়ে আছে। তবে এটি সাধারণভাবে বরফ দিয়ে ঠাণ্ডা করার মত নয় কারণ এভাবে দেহের কোষগুলো ঠাণ্ডায় জমে ফেটে যেতে পারে আর তাই ক্রায়োনিক্স বিশারদরা এতে প্রয়োগ করে ক্রায়োপ্রোটেকটেনট নামক এক বিশেষ রাসায়নিক, যা দিয়ে মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে শুরু করে রক্তনালির ভেতরের উপাদানকেও সংরক্ষণ করা সম্ভব। এমনকি বিজ্ঞানীরা এও দাবী করেন এতে নাকি মস্তিষ্কের প্রতিটি স্মৃতি পর্যন্ত অক্ষত থাকে। এভাবেই ভবিষ্যতে জাগিয়ে তোলার আশা নিয়ে সংরক্ষণ করা হয় মৃতদেহ আর এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ক্রায়োনিক্স।

ক্রায়োনিক্সের শুরুটা কারো একার হাত ধরে হয়নি। বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্কের জের ধরেই এর আবির্ভাব। শুধু মাত্র হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলেই মানুষ মারা যাবে কেউ কেউ এটা মেনে নিতে চাননি। কেননা ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে, অনেকক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পরেও মানুষ বেঁচে ফিরে এসেছে। এই ক্ষেত্রে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ডের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী দুই মেয়ের বাবা ডেভিড বিঙ্কসের কথা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। এপ্রিল মাসের এক সকালে ডেভিডের গোঙানিতে পত্নী লিনেটের ঘুম ভেঙ্গে যায়। পাশেই স্বামীকে দম নেয়ার জন্য হাঁসফাঁস করতে দেখে বুঝতে দেরি হয়নি যে তার স্বামীর হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। তিনি তৎক্ষণাৎ এমবুলেন্স ফোন করেন। সাহায্যের জন্য অপেক্ষা না করে তিনি মুখে মুখ লাগিয়ে এবং বুকে চাপ দিয়ে স্বামীর শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার চেষ্টা করেন। মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় এমবুলেন্স পৌঁছে যায়। হাসপাতালে ডাক্তারদের অবিরত চেষ্টা এবং ১৬ বার শক দেয়ার পর প্রায় ৭০ মিনিট পরে ডেভিডের হৃদযন্ত্র পুনঃরায় সচল হয়। এই ৭০ মিনিট তিনি কিন্তু অফিসিয়ালি মৃতই ছিলেন, তার কোনো পালস ছিল না। এরপর ডেভিড এক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যান। ডেভিড বলেন, আগেরদিন তিনি আর দশটা সাধারণ মানুষের মতই ঘুমাতে যান কিন্তু পরের দিন যখন জ্ঞান ফিরে আসে নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়, এর মাঝে কি হয়েছে তার কিছুই মনে নেই। এমন আরও অনেক ঘটনার কথা জানা যায় হৃদযন্ত্র বন্ধ থেকে পুনঃরায় চালু হওয়ার। তাই সত্যিকার অর্থে ঠিক কখন মৃত্যু ঘটে তাই নিয়ে রয়ে গেছে বিতর্ক। আর এই ফাঁকেই উঠে এসেছে ক্রায়োনিক্স। ক্রায়োনিক্স বিজ্ঞানীদের দাবী এর মাধ্যমে নাকি আসল মৃত্যুর কয়েকমিনিট আগেই দেহের সবকিছু আটকে দেয়া সম্ভব এমনকি মৃত্যুকেও (!)

পাঠক আপনাদের কাছে যত উদ্ভটই হোক না কেন। এই ধারণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের অনেক দেশেই গড়ে উঠেছে ক্রায়োনিক্স ইন্সটিটিউট। আর এদের সদস্যসংখ্যা কিন্তু নেহাত কম নয়। অনেক বিত্তবান, তারকা, বিজ্ঞানীরা হচ্ছে এর সদস্য যারা নিজেদের দেহকে এভাবে ঠাণ্ডা মমি করার জন্য দিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতে মৃত্যু থেকে জেগে উঠার আশায়। যেভাবে প্রাচীন মিশরে মমি করা হত পুনঃজন্মের আশায়। একুশ শতকে এসে শুধু এর ধরণ বদলেছে। তবে এই ক্রায়োনিক্স সাধারণ মানুষের জন্য নয়, সদস্যকে অত্যন্ত ধনী হতে হবে এর জন্য। সম্পূর্ণ শরীর সংরক্ষণের প্রাথমিক খরচ ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত। প্রতি বছর গুনতে হবে আলাদা করে বার্ষিক সংরক্ষণ ফি। এর জন্য মৃত্যুর পূর্বে ব্যাংকে রেখে যেতে হবে বিশাল অংকের টাকা।

ক্রায়োনিক্স নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মুভি, টিভি সিরিয়াল এবং উপন্যাস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আর্থার সি ক্লার্কের ‘৩০০১: দা ফাইনাল অডিসি’, জ্যাক লন্ডনের ‘অ্যা থাউজেন্ড ডেথস’, এইচপি লাভারক্রাফটের ‘কুল এয়ার’, এডগার রাইস ব্যরোজের ‘দা রিসারেকসন অব জিম্বার জ’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য মুভি হচ্ছে পরিচালক ডব্লিউ ডি রিখটারের ‘লেট ফর ডিনার’, ফরেভার ইয়ং। আরও আছে উল্লেখযোগ্য টিভি সিরিজ ‘কোল্ড ল্যাজারুশ’, ‘ড. হু’, ‘গোথাম’ যেখানে দেখানো হয়েছে ক্রায়োনিক্স।

শুনতে যত উদ্ভটই হোক, এতসব ঝক্কি-ঝামেলা, খরচের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে যদি কোনোভাবে আরেকটিবার এই পৃথিবীতে ফিরে আশা যায়। পৃথিবীর খোলা হাওয়াতে আরেকটিবার শ্বাস নেয়ার জন্য বিত্তবানরা সব দিয়ে দিচ্ছে আর বিজ্ঞানীরা প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে। আসলেই কি সম্ভব হবে আবার কোনদিন ফিরে আশা ???
Read more ...

চলন্ত অবস্থায় হবে ওয়্যারলেস চার্জ



একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে নিকটস্থ ডিভাইসগুলোকে চার্জ করতে পারে এই প্রযুক্তি। হাইওয়েতে চলন্ত অবস্থায় বৈদ্যুতিক গাড়ি, মেডিক্যাল ইমপ্ল্যান্ট বা মোবাইল ফোন চার্জ করা যাবে এতে, বলা হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএস-এর প্রতিবেদনে।

“যানবাহন ও মোবাইলফোনের মতো ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলো ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের পাশাপাশি আমাদের নতুন প্রযুক্তি উৎপাদন খাতে রোবট-এর ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে পারে,” বলেন অধ্যাপক শ্যানহুই ফ্যান।

বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর জন্য একটি বাধা ধরা হয় একবার চার্জে গাড়িটি কতদূর চলতে পারে সেটি। বলা হয় বৈদ্যুতিক গাড়ি চালনার পরিসর সীমিত। নতুন এই ওয়্যারলেস প্রযুক্তি বৈদ্যুতিক গাড়ির এ বাধাকে অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
“তাত্ত্বিকভাবে যখন কাউকে রিচার্জের জন্য থামতে হচ্ছে না তখনই শুধু বিরামহীন গাড়ি চালানো যেতে পারে। আশা করা হচ্ছে আপনি হাইওয়েতে আপনার বৈদ্যুতিক গাড়ি চালানোর সময় তা চার্জ করতে পারবেন,” বলেন ফ্যান।

তিনি আরও বলেন, এই প্রযুক্তিতে গাড়ির নীচে লাগানো কয়েল রাস্তায় বসানো কয়েল থেকে বৈদ্যুতিক শক্তি নিতে পারে।

প্রযুক্তি প্রদর্শনে একটি চলমান এলইডি বাল্বে চার্জ করে দেখিয়েছে গবেষক দলটি। এতে মাত্র এক মিলিওয়াট চার্জ স্থানান্তর করা হয়, যা বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে এই পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই কাজ করছে দলটি।
Read more ...

নিউটন কি সত্যিই মাথায় আপেল পড়ার ঘটনা থেকে মাধ্যাকর্ষণের ধারনা পেয়েছিলেন?



নিউটন কি সত্যিই মাথায় আপেল পড়ার ঘটনা থেকে মাধ্যাকর্ষণের ধারনা পেয়েছিলেন?

বিজ্ঞানী নিউটন সম্বন্ধে একটি গল্প প্রচলিত আছে যে, তিনি একদিন তাঁর বাগানে আপেল গাছের নিচে বসেছিলেন। এই সময় হঠাৎ একটি আপেল তাঁর মাথায় পড়ল আর ওমনি তাঁর মনে হলো আপেলটি কেন নিচের পৃথিবীর দিকে নেমে এলো, কেন এটি উপরের দিকে উঠে গেল না। এই ঘটনা নিয়ে ভাবতে গিয়েই তিনি মধ্যাকর্ষন আবিষ্কার করেন। কিন্তু সত্যিই কি তাই, নাকি এটি নিছকই একটি গাল-গল্প?

নিউটনের আপেলের গল্পটি বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পগুলোর একটি। তবে এটি যেভাবে ছড়ানো হয়েছে আসলে তেমন নয়। লন্ডনের রয়াল সোসাইটির পুরোনো আর্কাইভ ঘেঁটে একটি পান্ডুলিপি উদ্ধার করা হয়েছে যাতে আপেল বিষয়ক একটি ঘটনার উল্লেখ ঠিকই আছে।

এই পান্ডুলিপিটি নিউটনের জীবনী নিয়ে লিখেছিলেন তাঁরই একজন বন্ধু উইলিয়াম স্টাকেলি, পেশায় যিনি ছিলেন একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ। নিউটন আপেল বিষয়ক গল্পটি স্টাকেলিকে শুনিয়েছিলেন; তাঁর ভাষাতেই দেখা যাক:

“নৈশভোজের পর আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করায় আমরা বাগানে গেলাম এবং কিছু আপেল গাছের কাছে ছায়ায় বসে চা পান করলাম। সে আমাকে বলল, সেই ঠিক এমনই অবস্থায় ছিলো যখন তার মাথা মধ্যাকর্ষনের ধারনাটি এলো। এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো একটি আপেল পতনের মাধ্যমে, যখন যে চিন্তামগ্ন অবস্থায় বসেছিলো। সে মনে মনে ভেবেছিলো কেন আপেলকে সবসময় ভুমির লম্ব বরাবর নিচের দিকেই পড়তে হবে….”

রয়্যাল সোসাইটি ২০১০ সালে এই পান্ডুলিপিটি সর্বপ্রথম উন্মুক্ত করে এবং তারপরই প্রকৃত গল্পটি সবাই জানতে পারে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে যে গল্পটি অনেকাংশেই সত্যি, তবে নিউটনের মাথায় আপেলটি পড়েছে এমন সম্ভবতঃ নয় যদিও গল্পটি এভাবেই ছড়িয়েছে।
Read more ...

নতুন আবিষ্কৃত ব্যাকটেরিয়া প্লাস্টিক খেতে সক্ষম




জাপানের একদল বিজ্ঞানী একপ্রকার ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেb যা প্রচলিত প্লাস্টিক পানির বোতল খেতে সক্ষম।

গত মার্চে সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয় যে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিবছর পৃথিবীব্যাপী উৎপাদিত প্রায় ৫ কোটি টন প্লাস্টিক বোতল নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

প্লাস্টিক পানির বোতলগুলো পলিথিলিন টেরিফথেলেট বা PET হিসেবে পরিচিত যা সাধারণত পলিয়েস্টার পোশাক, হিমায়িত খাবারের পাত্র এবং গুটী মোড়কে পাওয়া যায়। ম্যাসাচুসেটস এর উডস হোল ওশানোগ্রাফিক ইন্সটিটিউট থেকে ট্রাসি মিনসার বলেন, “আপনি যদি ওয়াল-মার্টের করিডর দিয়ে হাঁটেন তবে সেখানে অসংখ্য PET দেখতে পারবেন।”

পিইটি এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা রং বিহীন হালকা ওজনের এবং অধিক শক্তিশালী। এছারাও এগুলোকে কোন জীবণু বিভক্ত করতে পারেনা। পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গিয়েছিলো অল্প কিছু প্রজাতির ছত্রাক পিইটির মধ্যে জন্মায় কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই এই বস্তুকে খাওয়ার মতো কোন জীবাণু খুঁজে পায়নি। বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াটিকে “বায়োডিগ্রেডেশন” বলে থাকেন।

প্লাস্টিক খাওয়া জীবাণুদের খুঁজতে জাপানী বিজ্ঞানীদের দল প্লাস্টিক বোতল প্রক্রিয়াকরণ এলাকা থেকে ২৫০ টি পিইটি সম্বলিত নমুণা সংগ্রহ করেন যাতে মাটি, পলল এবং বর্জ্য মিশ্রিত ছিল। এরপর তারা দেখেন নমুণাগুলিতে বসবাসরত জীবাণু পিইটি খায় কিনা এবং তা খেয়ে জীবিত থাকতে পারে কিনা। অবশেষে তারা ব্যাকটেরিয়ার একটি প্রজাতি খুঁজে পান যা পিইটির অবস্থার পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তারা এর নাম দেন আইডিয়েনেলা সাকেনেসিস।

গবেষণাগারের পরবর্তী পরীক্ষায় প্রকাশ পায় যে এটি পিইটি ভাঙ্গার জন্য দুটি এনজাইম ব্যাবহার করে। পিইটি পৃষ্ঠে অবস্থান করে মাধ্যমিক পর্যায়ের একটি রাসায়নিক উৎপাদন করার জন্য ব্যাকটেরিয়াটি একটি এনজাইম গোপন করে রাখে। পরবর্তীতে কোষের মাধ্যমে ঐ রাসায়নিক সংগ্রহ করে অন্য একটি এনজাইম দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে এবং ব্যাকটেরিয়া এর থেকে কার্বন এবং শক্তি উৎপন্ন করে।

গবেষকগণ জানান আইডিয়েনেলা সাকেনেসিসের একটি সম্প্রদায় এই পদ্ধতিতে কাজ করেই ছয় সপ্তাহের মধ্যে ৮৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় পিইটির পাতলা স্তর ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হয়।

মিনসার জানান, গবেষণাটির মাধ্যমে আমরা খুব ভালোভাবে দেখতে পেরেছি এই জিবাণুগুলো খুব ভালোভাবেই প্লাস্টিক খেতে পেরেছে। তবে সমুদ্রের প্লাস্টিক নির্মূল করতে এটা কতোটা উপযোগী হবে সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। কিন্তু এরকম গবেষণা অন্যান্য পিইটি ভাঙ্গা জীবাণু খুঁজে বের করার পথ সুগম করে দেবে।
Read more ...